জাতীয় ভাবে স্বীকৃত বাংলা কীবোর্ড চাই

আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বাংলা কীবোর্ড চাই।

বাংলা ভাষা আমাদের রাষ্ট্রভাষা। বিশ্বের মোট ভাষাভাষীদের সংখ্যা গত দিক দিয়ে বাংলা ভাষার স্থান ষষ্ঠ। যেই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম,বরকত রা । যে ভাষায় লেখা হয়েছে লাখো কবিতা,গান,উপন্যাস । কিন্তু দু:খের ব্যাপার এই যে আমাদের এই ভাষার কোন আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বাংলা কীবোর্ড লেআউট নেই। আমরা আজো ব্যবহার করি নানা বাংলা কীবোর্ড সফটওয়্যার যেমন: অভ্র,বিজয়,প্রশিকা ইত্যাদি। ৯০ এর দশক হতে আজ পর্যন্ত নানা কীবোর্ড লেয়াউট। যেমন: বিজয়,নয়ন বাংলা, প্রভাতি, ইউনিজয়, বর্ণনা ইত্যাদি। অ্যাসকি যুগ থেকে ইউনিকোড যুগে পদার্পণ এর পর ও আমরা পাইনি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বাংলা কীবোর্ড লেআউট। মাইক্রোসফট তাদের অপারেটিং সিস্টেম এ বাংলা ভাষা লেখার জন্য ব্যবহার করছে ভারতে ব্যবহৃত এবং আবিষ্কৃত  INSCRIPT কীবোর্ড টি। যা আমাদের দেশে কেউই ব্যবহার করেন বলে জানা নেই। কেন এ দুরবস্থা?

 

কীবোর্ড লেআউট নকশাকরন কোন সহজ কম্ম নয়। এর জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক সাধনা,অনুসন্ধান । দ্রুততা, দু হাতের ভারসাম্যতার প্রতি নজরদারি প্রধান বিষয় হয়ে থাকে কীবোর্ড লেআউট নকশাকরন। আরামদায়ক টাইপিংয়ের  অভাবে কার্পাল টানেল (Carpal Tunnel, এই রোগের লক্ষণ সমূহ হলো বৃদ্ধাঙ্গুলি, মধ্যমা, তর্জনী অথবা হাতের কব্জিতে অবশ অনুভব, তীব্র স্নায়ুবিক যাতনা অথবা দুর্বল অনুভব করা, ক্রণিক কার্পেল টানেলের ক্ষেত্রে নার্ভ ড্যামেজের আশংকা থাকে) বা আরএসআই ইনজুরি(Repetitive strain injury, পুনরাবৃত্তি কাজের চাপে বাহু অথবা হাতের পেশী, অপেক্ষাকৃত নরম টিস্যুতে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করা) জাতীয় স্বাস্থ্যগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

তুরস্ক তে কীবোর্ড লেআউট নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছিল।  গবেষণার মাধ্যমে তুর্কী বর্ণমালার অক্ষর ফ্রিকোয়েন্সি নির্ণয় করা হয়। এ কাজে সাহায্য করে টার্কিশ ল্যাংগুয়েজ এ্যাসোসিয়েশন।  প্রাপ্ত তথ্যগুলো কাজে লাগানো হয় অস্থি এবং পেশী এনাটমি গবেষণায়। অতঃপর ১৯৫৫ সালে তুর্কী জাতীয় কী-বোর্ড, টার্কিশ এফ কী-বোর্ড, উদ্ভাবিত হয়। এই কী-বোর্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো টাইপিংয়ে দুই হাতের ভারসাম্য রক্ষা। ৪৯% কী-স্ট্রোক বাম হাতের জন্য এবং ৫১% কী-স্ট্রোক ডান হাতের জন্য। টার্কিশ ল্যাংগুয়েজ এ্যাসোসিয়েশনের মত  আমারদের রয়েছে রয়েছে- বাংলা একাডেমী। তাদের মাধ্যমে আমরা করতে পারি গবেষণা এবং পেতে পারি বিজ্ঞানসম্মত একটি কীবোর্ড।

BCC এর দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল “জাতীয় কীবোর্ড”। যা পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে! তাছাড়া  এই কীবোর্ড লেআউট এর সাথে “বিজয় কীবোর্ড” লেআউট এর অনেকাংশে মিল। আর যদি সরকারের এই কীবোর্ড লেআউট কেই জাতীয় ভাবে প্রণয়ন করার ইচ্ছা থাকে তাহলে ইহা কেন সার্বজনীন ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি?

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সূচনায় আমাদের দাবি সার্বজনীন এবং আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি কীবোর্ড। যা ব্যবহার করবে সকল বাংলা ভাষাভাষী। যার জন্য প্রয়োজন হবে না আলাদা সফটওয়্যার এর। যা থাকবে সকল অপারেটিং সিস্টেম এ স্বয়ংক্রিয় ভাবে। এই দাবি কি আমরা করতে পারি না????

[ টিউন টি তে কোন ভুল থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি তে দেখবেন এবং আমাকে জানাবেন]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s